উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা জগদীপ ধনকড়ের, কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন তিনি?

নাটকীয়ভাবে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। ঠিক কী কারণে এবং কার চাপে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, ইস্তফার পরেও কি ধনকড় সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন? যদি পান, তাহলে তার পরিমাণ কী হবে?
অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির সুযোগসুবিধা
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও উপরাষ্ট্রপতি যদি দু’বছরের বেশি সময় ধরে পদে থাকার পর ইস্তফা দেন, তাহলে তাঁকে অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতিদের মতোই সমস্ত সুযোগসুবিধা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, জগদীপ ধনকড় প্রতি মাসে পেনশন পাবেন। ২০১৮ সালের বাজেট অনুযায়ী, একজন অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির বার্ষিক পেনশনের পরিমাণ অন্তত ৪৮ লক্ষ টাকা। এই মোট অঙ্কের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মাসিক পেনশন হিসেবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জগদীপ ধনকড় মাসিক ২ লক্ষ টাকার বেশি পেনশন পাবেন।
পেনশন ছাড়াও আরও অনেক সুবিধা
শুধুমাত্র পেনশন নয়, সদ্য ইস্তফা দেওয়া জগদীপ ধনকড় আরও একগুচ্ছ সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
আবাসন: টাইপ এইট ক্যাটাগরির একটি সরকারি বাংলো দেওয়া হবে তাঁকে।
যাতায়াত: বিনামূল্যে আকাশপথে এবং রেলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা পাবেন তিনি।
চিকিৎসা: নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা এবং একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসকও পাবেন।
কর্মী: তাঁর ব্যক্তিগত কাজের জন্য দুজন সচিব থাকবেন। তাঁর স্ত্রীর জন্যও একজন ব্যক্তিগত সচিব থাকবেন।
অন্যান্য সুবিধা: সরকারি বাংলোর বিদ্যুৎ এবং জলের বিল সরকার বহন করবে। এছাড়া কিছু আসবাবপত্র এবং দুটি মোবাইল ফোনও তাঁকে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হবে।
নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু
একদিকে যখন জগদীপ ধনকড়ের হঠাৎ ইস্তফা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং খুব শীঘ্রই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।