উপত্যকায় যুদ্ধের মেঘ! খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল কাশ্মীর, কার্ফিউ জারির উপক্রম

শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর পৌঁছানো মাত্রই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর এবং বুদগাম এলাকায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। শয়ে শয়ে মানুষ কালো পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে মার্কিন ও ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাশ্মীর উপত্যকার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লির জামা মসজিদ থেকে শুরু করে লখনউয়ের ইমামবাড়া—সর্বত্রই বিশিষ্ট মৌলানারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং বিভিন্ন শিয়া সংগঠনের নেতারা খামেনেইর মৃত্যুকে ‘ইসলামিক বিশ্বের অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেক জায়গায় গায়েবানা জানাজাও পড়ানো হয়েছে। মৌলানাদের একাংশের দাবি, আমেরিকা বিশ্বজুড়ে মুসলিম নেতাদের টার্গেট করে অস্থিরতা তৈরি করছে। লখনউয়ের প্রখ্যাত ধর্মগুরুদের মতে, খামেনেই কেবল ইরানের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (IB) দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরে যাতে এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী নাশকতা চালাতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। শ্রীনগরের কিছু অংশে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে গুজব ছড়ানো রুখতে। কার্গিল ও লাদাখেও বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের এই আঁচ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy