‘উন্নতি’ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াল কেন্দ্র, তবে কি ১০০ দিনের কাজের বকেয়া নিয়ে চাপ বাড়ল রাজ্যের ওপর

পশ্চিমবঙ্গের মনরেগা (MGNREGA) শ্রমিকদের জন্য ‘উন্নতি’ প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত শনিবার এই সংক্রান্ত একটি চিঠি রাজ্য সরকারের হাতে পৌঁছানোর পরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মনরেগার অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের জীবিকা আরও স্থিতিশীল করা। নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব জবকার্ড হোল্ডার মনরেগা’র অধীনে কমপক্ষে ৬০ দিন কাজ করেছেন এবং যাদের বয়স ৪৫ বছরের নিচে, তারা প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ও মহিলা প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতি পরিবার থেকে দুজন সদস্যকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণকালীন সময়ে সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্টাইপেন্ড জমা হবে।

কাজ নেই, শুধু প্রশিক্ষণ! কতটা কার্যকর হবে ‘উন্নতি’?
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি জবকার্ড হোল্ডার অভিযোগ করছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ ও তার জন্য প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রশিক্ষণের ঘোষণা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল।

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কতটা গয়ংগচ্ছভাবে চলছে, তা আবার প্রমাণিত হলো। আসলে ওরা রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। তাদের দ্বিমুখী আচরণ স্পষ্ট হয়ে গেছে।”

তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে তাদের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ তৈরির কাজে যুক্ত করা হবে, যাতে তাদের আয় বাড়ে। এ জন্য রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কেরলের ‘মিকাভু’ মডেল নাকি পশ্চিমবঙ্গের ‘উৎকর্ষ বাংলা’?
কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠিতে কেরলের ‘মিকাভু’ প্রকল্পকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে কি কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ‘উৎকর্ষ বাংলা’-এর মতো অন্যান্য রাজ্যেও সফল দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কেরলের প্রকল্পকে মডেল হিসেবে তুলে ধরায় এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, মনরেগার শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির নামে কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বাংলায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষত রাজ্যের জবকার্ড হোল্ডারদের দীর্ঘদিনের কাজ না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।