আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে যখন মহম্মদ সেলিম ‘সন্তানসম’ প্রতীক উর রহমানের জন্য আবেগপ্রবণ হয়ে চোখের জল ফেলছেন, ঠিক তখনই সেই আবেগ নিয়ে পাল্টা বোমা ফাটালেন খোদ প্রতীক। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের সেই বার্তাকে কার্যত তুচ্ছজ্ঞান করে প্রতীক উর সরাসরি আক্রমণ শানালেন। তাঁর সাফ কথা, সেলিমের চোখের জল আসলে ‘কুম্ভীরাশ্রু’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বাম শিবিরের এই তরুণ তুর্কির এমন বয়ানে এখন বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড়।
প্রতীক উরের অভিযোগ, মহম্মদ সেলিম কেবল দলের বিশেষ কয়েকজনকে চেনেন এবং তাঁদেরই গুরুত্ব দেন। তিনি সরাসরি হুমায়ুন কবীর এবং শতরূপ ঘোষের নাম টেনে এনে বলেন, “উনি চেনেন শুধু হুমায়ুন আর শতরূপকে! আমি কে?” প্রতীকের দাবি, বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁকে যেভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগের পাহাড় সাজানো হয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল দলেরই একাংশের মদত। সেলিম তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ডাকার কথা বললেও, প্রতীক সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, সবটাই আসলে লোকদেখানো।
এই সংঘাতের ফলে সিপিএমের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এখন প্রশ্নের মুখে। প্রতীক উরের এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি আর আপস করার মেজাজে নেই। যেখানে রাজ্য কমিটি তাঁকে নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে প্রতীকের এই ‘বিদ্রোহী’ সুর দলের নবীন ও প্রবীণ দ্বন্দ্বকে আরও প্রকট করে তুলেছে। আলিমুদ্দিনের ‘আবেগ’ বনাম প্রতীকের ‘আক্রমণ’— এই দ্বৈরথ ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের জন্য এক বড়সড় অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াল।