নতুন বছরের শুরুতেই আজব এক ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি শহর। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘আম্রুত প্রকল্পের’ ঘটা করে উদ্বোধন করলেন পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু উদ্বোধনের আনন্দ নিমেষেই ফিকে হয়ে গেল যখন স্বয়ং চেয়ারম্যানই শহরবাসীকে ওই জল পান করতে নিষেধ করলেন। প্রকল্পের সূচনার দিনই এমন ঘোষণা ঘিরে জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে।
ঘটনাটি ঠিক কী? বুধবার বছরের শেষ দিনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়কত পাড়ায় তড়িঘড়ি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। তিস্তা নদী থেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে জল তুলে তা পরিশোধন করে শহরের ২৫টি ওয়ার্ড ও খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশের প্রায় তিন লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু উদ্বোধনের পর জানা গেল, আপাতত পাইপে যে জল যাবে তা পানের যোগ্য নয়। পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়ার জন্য শহরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত আরও ৪৫ দিন। চেয়ারম্যানের দাবি, আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ জল পৌঁছে দেওয়ার প্রথম ধাপ শুরু হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে। বিজেপির অভিযোগ, সামনেই ভোট, তাই অসমাপ্ত প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল ফটোসেশনে ব্যস্ত। জেলা বিজেপির প্রাক্তন সম্পাদক শ্যাম প্রসাদের দাবি, “পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, তাই ভাইস চেয়ারম্যানকে এই কর্মসূচিতে দেখাই গেল না।” অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক বাড়িতে এখনও কানেকশনই পৌঁছায়নি। বিরোধীদের কটাক্ষ শুনে মেজাজ হারিয়ে চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, “১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিশ্রুত জল না দিতে পারলে আমাদের আর ভোট দেবেন না।” এই চ্যালেঞ্জ এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।