উদ্ধার হওয়া ৫টি ওরাংওটাংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আপডেট! ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আসল উৎস খুঁজছে এসটিএফ

ওড়িশার বিখ্যাত নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। এদের রক্তসহ বিভিন্ন শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পশু চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল প্রতিদিন এদের স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজর রাখছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা চলছে। পাশাপাশি, একটি উচ্চপর্যায় কারিগরি কমিটিও ওরাংওটাংগুলির সামগ্রিক শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
প্রাণীগুলির প্রকৃত উৎস, পরিচয় এবং এদের চোরাচালানের নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নন্দনকানন পার্কে এই ধরনের উন্নত গবেষণাগারের সুবিধা না থাকায়, পিসিসিএফ তথা প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক প্রেম কুমার ঝা জানিয়েছেন যে উপযুক্ত গবেষণাগার খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে ওরাংওটাংগুলি স্বাভাবিকভাবে খাবার খাচ্ছে এবং এদের ক্ষুধা, আচরণ ও চলাফেরায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি এদের মলত্যাগও স্বাভাবিক রয়েছে এবং খাদ্যতালিকায় নিয়মিত কঠিন খাবার রাখা হচ্ছে, যার ফলে এদের ওজনও ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে, এই বিরল প্রাণীগুলি কীভাবে ওড়িশায় পৌঁছাল, তা উদঘাটনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB) যৌথভাবে বিভিন্ন রাজ্যে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধীদের শীঘ্রই আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদী এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চালানো হচ্ছে। এই প্রাণীগুলি নন্দনকাননেই থাকবে নাকি অন্য কোনো সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তরিত করা হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বন দফতর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।