“আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত হচ্ছে!” পর পর দু’দিন গাড়িতে হামলার ঘটনায় মরিয়া হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল ঘোষ

পরপর দুই দিনে গাড়িতে দফায় দফায় প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এই চরম আতঙ্কের পরিস্থিতিতে নিজের জীবন ও নিরাপত্তার আকুতি জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা আর না ঘটে, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে কুণালের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির জোরালো আবেদন জানান। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর যেভাবে পর পর দু’দিন হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাতে তাঁর প্রাণনাশের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত শুনানির বিশেষ আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই মামলাটি শুনানির তালিকায় আসবে বলে জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। হুগলির শ্রীরামপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় উত্তরপাড়ার কাছে কুণাল ঘোষের কনভয় ও গাড়ির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর ইট, পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। এমনকি লোহার রড দিয়ে সজোরে গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এই ভয়াবহ হামলার জেরে নির্ধারিত শ্রীরামপুরের সভায় পৌঁছাতেই পারেননি তিনি। আতঙ্কিত অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে সোজা কলকাতায় ফিরে ভবানীভবনে যান কুণাল।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের তাঁর ওপর হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। এ বারের ঘটনাস্থল ছিল তাঁর নিজ বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটা। বিধায়কের অভিযোগ, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়িকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এরপর নারকেলডাঙা এলাকায় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে পাথর ও হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধ্য হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন বলে দাবি করেন তিনি। রবিবারের এই ঘটনার পরেই নারকেলডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কুণাল। পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরপর দুই দিন এমন রোমহর্ষক হামলার ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। কুণাল সরাসরি শাসক শিবিরের বিরোধী দল বিজেপির দিকে আঙুল তুললেও, বিজেপি সমস্ত অভিযোগ এককথায় উড়িয়ে দিয়ে উল্টো দাবি করেছে যে তৃণমূলের দলীয় কোন্দলের ফলেই এই ঘটনা ঘটছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “কুণাল ঘোষ নিজেই জেনেশুনে মানুষকে উস্কানি দেন যাতে তাঁর ওপর হামলা হয়। সবসময় খবরের শিরোনামে থাকার জন্যই তিনি এসব সাজানো নাটক করেন।” পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।