রবিবাসরীয় দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ন প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল চরম সংঘাতে। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ‘বেধড়ক’ লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
প্রতিবাদের কারণ কী?
উদয়নারায়ণপুরের ওই রাস্তাটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষায় কাদা আর গরমে ধুলোর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার দরবার করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। শেষমেশ ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় এদিন সকাল থেকেই রাস্তার ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েকশ গ্রামবাসী। যার ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।
পুলিশি ‘অ্যাকশন’ ও চরম উত্তেজনা
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও নাছোড়বান্দা ছিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ কথা— রাস্তার কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সরবেন না।
অনুরোধে কাজ না হওয়ায়: পুলিশ জোর করে অবরোধ সরাতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
লাঠিচার্জ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে বলে অভিযোগ। পুলিশের লাঠির ঘায়ে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
ধুন্ধুমার: পুলিশের তাড়া খেয়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
পুলিশের দাবি, দীর্ঘক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করে রাখায় সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। বারবার বুঝিয়েও কাজ না হওয়ায় সামান্য বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো কথা না শুনেই মহিলাদের ওপরও লাঠি চালিয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে রাস্তা সংস্কারের মূল দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে উদয়নারায়ণপুরে।





