উত্তরাখণ্ডে আবারও প্রকৃতির রোষ! মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে নদীর তোড়ে ভেসে গেল শ্রমিক বোঝাই ট্রাক্টর, হাহাকার উত্তরাখণ্ডে

প্রবল বৃষ্টি আর মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। এবার দেরাদুনে টন নদীতে একটি ট্রাক্টর তলিয়ে গিয়ে কমপক্ষে ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাক্টরটিতে প্রায় দশজন শ্রমিক ছিলেন। আকস্মিক বন্যায় নদীর জলস্তর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে ট্রাক্টরটি মাঝ নদীতে আটকে পড়ে এবং শ্রমিকরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে শুরু করেন। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত থাকায় স্থানীয়রা এগিয়ে যেতে পারেননি।

কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনাটি?

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, টন নদীর মাঝখানে আটকে পড়েছিল একটি ট্রাক্টর। ট্রাক্টরে থাকা শ্রমিকরা চিৎকার করে ও হাত নেড়ে নদীর পাড়ে থাকা স্থানীয়দের সাহায্য চাইছিলেন। নদীর পাড়ে কয়েকজন স্থানীয় উপস্থিত থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে তাঁরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে যেতে পারেননি। অসহায় স্থানীয়দের চোখের সামনেই ট্রাক্টরটি উল্টে গিয়ে নদীর তোড়ে তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, শ্রমিকরা সম্ভবত মাইনিংয়ের কাজ করছিলেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য

মেঘ ভাঙা বৃষ্টির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান দেরাদুনের জেলা শাসক সাভিন বংশল, এসডিএম কুমকুম জোশি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। জেলা শাসক দ্রুত নিখোঁজ শ্রমিকদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। NDRF, SDRF, PWD সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে দেরাদুনের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের উপর ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজ্যে অবিরাম দুর্যোগ: ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক

গত রাতে প্রবল বর্ষণে দেরাদুনের বহু বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঋষিকেশে চন্দ্রভাগা নদীর জল রাস্তায় ঢুকে পড়ায় তিনজন আটকে পড়লে SDRF দল তাঁদের উদ্ধার করে। এদিকে, পিথোরাগড় জেলায় ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

এই বর্ষায় উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১২৮ জন এবং ৯৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরাখণ্ড সফরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য ১,২০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন।