২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্দরে ফাটল চওড়া হয়েছে। সোমবার দিল্লি থেকে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অসন্তোষের আগুন জ্বলছে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ারে। আলিপুরদুয়ার আসনে পরিতোষ দাসের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, আসবাবপত্র তছনছ এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে গেরুয়া নেতৃত্ব। অভিযোগ উঠছে, ভূমিপুত্রদের উপেক্ষা করে ‘পছন্দের’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির এই ঘরোয়া কোন্দলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে এক মুহূর্তও দেরি করছে না তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গ একসময় বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত হলেও, গত লোকসভা নির্বাচনে সেখানে ঘাসফুল শিবিরের ফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক ছিল। এবার বিজেপির এই ‘বিদ্রোহকে’ হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রচার শুরু করেছে যে, বিজেপি কেবল ভোটের সময় বিভাজনের রাজনীতি করে, কিন্তু কর্মীদের আবেগের কোনো মূল্য দেয় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া এবং রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব তৃণমূলের জন্য ‘সোনায় সোহাগা’ হয়ে উঠতে পারে।
বিজেপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর একাংশ ইতিমধ্যেই নির্দল হিসেবে লড়াই করার বা নিষ্ক্রিয় থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর সরাসরি সুফল যেতে পারে তৃণমূলের ঝুলিতে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির মতো জায়গায় যেখানে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি, সেখানে বিজেপির ভোট কাটাকুটি তৃণমূলের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এখন দেখার, বিজেপি নেতৃত্ব এই বিদ্রোহ দমন করে ঘর সামলাতে পারে, নাকি উত্তরবঙ্গের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশলই শেষ হাসি হাসবে।