২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এই আবহে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আগত নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস একটিও আসন পাবে না। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গকে পুরোপুরি ‘তৃণমূল শূন্য’ করার ডাক দিলেন এই বিজেপি নেতা। শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিপূর্বেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে রাজ্য সরকারের বঞ্চনার শিকার। বিশেষ করে চা বলয় এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূলের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূল উত্তরবঙ্গে সাইনবোর্ডে পরিণত হবে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মানুষ যা ইঙ্গিত দিয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তা পূর্ণতা পাবে। বিজেপি এখানে ৫৪-তে ৫৪ পাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।” এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও শিলিগুড়ির সভা থেকে ২৮টি লোকসভা কেন্দ্র ভিত্তিক লড়াইয়ে বিজেপি-র ক্লিন সুইপ করার কথা বলেছিলেন, শুভেন্দুর আজকের দাবি সেই সুরকেই আরও একধাপ চড়িয়ে দিল।
শুভেন্দুর এই দাবির পেছনে তিনি বেশ কিছু সমীকরণও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সিএএ (CAA) কার্যকর হওয়া এবং পাহাড়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তৃণমূলের সুবিধাবাদী রাজনীতি মানুষ ধরে ফেলেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, উত্তরবঙ্গের ভোটাররা এখন সরাসরি দিল্লির মোদী সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “পাহাড় থেকে সমতল—তৃণমূলের দাদাগিরি আর চলবে না। মানুষ তৈরি আছেন, ভোট লুঠ না হলে তৃণমূলের পক্ষে একটি আসন পাওয়াও অসম্ভব হবে।”
অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট নেতারা জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী দিনের বেলায় স্বপ্ন দেখছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকেই যোগ্য জবাব দেবে উত্তরবঙ্গ। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে শুভেন্দুর এই ‘শূন্য’ দাওয়াই বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নিয়ে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।