উত্তরবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস (AIIMS) তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি এবার বাস্তবায়নের পথে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে দোমোহনির নাম। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কেন দোমোহনিকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
কেন দোমোহনিই সেরা পছন্দ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিকাঠামোগত সুবিধার বিচারে দোমোহনি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
বিশাল জমির প্রাপ্যতা: রেলের নিজস্ব প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ একর পরিত্যক্ত জমি সেখানে পড়ে রয়েছে। এইমসের মতো বিশাল প্রকল্পের জন্য এত বড় মাপের জমি পাওয়া অন্য জায়গায় বেশ কঠিন, যা দোমোহনির ক্ষেত্রে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: রেল ও সড়কপথের একদম সংযোগস্থলে অবস্থিত দোমোহনি। ফলে পাহাড় থেকে সমতল—উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলা থেকে রোগীদের দ্রুত পৌঁছানোর জন্য এই জায়গাটি অত্যন্ত সুবিধাজনক।
কেন্দ্রীয় অবস্থান: শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি কিংবা কোচবিহারের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় দোমোহনি উত্তরবঙ্গের সমস্ত মানুষের জন্য একটি ‘হব’ হিসেবে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নতুন দিগন্ত: উত্তরবঙ্গে উন্নত চিকিৎসার অভাবে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শিলিগুড়ি বা কলকাতা ছুটতে হয়। দোমোহনিতে এইমস স্থাপিত হলে তা কেবল এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানই বদলাবে না, বরং কয়েক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের পথও প্রশস্ত করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: অভিজিৎ বোসের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই দোমোহনির জমি সমীক্ষা নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সরকার দোমোহনিকেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেয় কি না।





