উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ। এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে খবর, আক্রান্ত ছাত্রটি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। বেধড়ক মারধরের পর প্রমাণ লোপাট করতে বা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে তাঁকে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খণ্ডঘোষে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি:
“তৃণমূল এখন ছাত্র সমাজকেও রেয়াত করছে না। বিজেপির সমর্থক হওয়ার অপরাধে এক পরীক্ষার্থীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটে থাকতে পারে, এর সাথে রাজনীতির যোগ নেই। তৃণমূলের বক্তব্য— “আমরা কোনো হিংসাকে সমর্থন করি না। পুলিশ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
পুলিশি তৎপরতা: খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও, এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার ঠিক আগে এমন ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।