উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজে জওয়ানদের ব্যবহার? জবাব চাইল হাইকোর্ট

কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) জওয়ানদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠল। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে জবাব চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
বিএসএফ-এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সঞ্জয় যাদব এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত জওয়ানদের দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজ, যেমন কুকুরের যত্ন নেওয়া বা ঘরোয়া কাজ করানো হয়। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সিএপিএফ-এ ৮৩,০০০-এরও বেশি পদ খালি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের অপব্যবহার চলছে।
ডিআইজি যাদব দাবি করেছেন যে, জওয়ানদের এই ধরনের ব্যবহার শুধু দেশের নিরাপত্তার পক্ষেই হুমকি নয়, বরং সরকারি অর্থের অপচয়ও বটে। তিনি তাঁর আবেদনে ২০১৬ সালের একটি সরকারি স্মারকলিপির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা ছিল যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, যেমন জওয়ানদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা গাড়ি, অবসরের এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিএসএফ ১৩১ জন জওয়ানের একটি তালিকা তৈরি করেছিল, যারা বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও সিএপিএফ অফিসারের সঙ্গে অননুমোদিতভাবে কাজ করছিলেন। কিন্তু বিএসএফ কর্তৃপক্ষ এই জওয়ানদের ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বা অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খরচের অর্থ আদায় করেনি।
বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষার রাও গেদেলার একটি বেঞ্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফ-কে নোটিশ জারি করে এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এই ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং সামরিক বাহিনীর মর্যাদার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে।