‘উইগ পরতেন বলেই খুন!’ হবু স্বামীকে হত্যার নেপথ্যে শিহরিত করা কারণ সামনে আনলেন সিয়া

মহারাষ্ট্রের লোহগড় দুর্গ হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে হবু বরকে খুন করার মতো এমন নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ। কেন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যানের পথ না বেছে সরাসরি খুনের পথ বেছে নিলেন ২০ বছরের তরুণী সিয়া গোয়াল? পুলিশি জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া পুলিশকে জানিয়েছেন, পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে কেতন আগরওয়ালকে খুন করা অনেক বেশি সহজ ছিল। যদিও পুলিশের দাবি, এই স্বীকারোক্তির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।
পুলিশি জেরায় সিয়া জানিয়েছেন, তিনি কেতনকে কোনোভাবেই বিয়ে করতে চাননি, কিন্তু পরিবারের মন ভেঙে দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। এই ‘পারিবারিক বিড়ম্বনা’ এড়াতেই তিনি কেতনকে লোহগড় দুর্গের খাদে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে সিয়ার এই অদ্ভুত যুক্তি নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরাও।
এদিকে, খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে আরও এক অদ্ভুত কারণ। পুলিশের দাবি, সিয়া তাদের জানিয়েছেন যে, কেতনকে তাঁর ভালো লাগত না কারণ তিনি মাথায় উইগ বা হেয়ার প্যাচ ব্যবহার করতেন। এই দাবি অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মৃত কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে ছোট একটি হেয়ার প্যাচ ব্যবহার করতেন এবং বাগদানের আগেই এই বিষয়টি সিয়ার পরিবারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিশালবাবুর কথায়, “উইগ পরা কোনোমতেই খুনের কারণ হতে পারে না।”
তদন্তে উঠে এসেছে, সিয়া আগে থেকেই কেতনকে বিয়ের অনিচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেতন সম্পর্ক ভাঙতে রাজি ছিলেন না। অভিযোগ, এরপরই সিয়া তাঁর প্রেমিক ও সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন। পরিকল্পনা মাফিকই কেতনকে লোহগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁকে খাদে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তের স্বার্থে শুক্রবার সিয়ার ভাই সাহিল গোয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুণে ভিলেজ পুলিশ। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, পরিবারের অন্য কেউ কি সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের কথা জানতেন? পুলিশ সূত্রে খবর, গত জানুয়ারি মাসে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময় সিয়া ও চেতনের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রথম জানতে পারে গোয়াল পরিবার। কিন্তু তারপরও কেন পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে অভিযুক্তদের বয়ান, ডিজিটাল প্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনত নির্দোষ, তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা এই মামলাকে এক জটিল মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।