অ্যাপ ক্যাব থেকে পা বাঁধা দেহ উদ্ধার! খাস কলকাতায় সাত সকালে এই খুন নাকি অন্য কিছু?

খাস কলকাতার বুকে সাত সকালে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। এন্টালি থানা এলাকার ট্যাংরার পিলখানা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ অ্যাপ ক্যাব থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তিকে অত্যন্ত সুকৌশলে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে গাড়ির চালককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে পিলখানা এলাকায় একটি বন্ধ ট্যাক্সির পিছনের আসনের সামনে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় এক মেকানিকের সহায়তায় ক্্যাবটির দরজা খুলে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর শরীরে কোনো সাড়াশব্দ ছিল না এবং নাড়ির কোনো স্পন্দনও পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত ওই ব্যক্তির পা দুটি দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াড, সায়েন্টিফিক উইং এবং ডিডি (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট)-এর বিশেষ টিম। ট্যাক্সির ভিতরে কীভাবে ওই ব্যক্তি এলেন এবং তাঁর পা কেন বাঁধা ছিল, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে এন্টালি থানার পুলিশ।

এদিকে, খাস কলকাতার এই ঘটনার পাশাপাশি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরও একটি রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উসকে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজায় দুটি ব্যাগের ভেতর থেকে ৯ টুকরো করে ভরা অবস্থায় এক ভারতীয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মৃত ওই যুবকের নাম অলউইন প্রকাশ কুন্দর (৩৮)। তিনি কর্ণাটকের উদুপি জেলার বাসিন্দা হলেও শারজা বিমানবন্দরে চাকরি করতেন এবং সপরিবারে সেখানেই থাকতেন। অলউইনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্ত্রী ও কিশোর ছেলে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান। মৃতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দরের দাবি, গত জুলাই মাস থেকেই অলউইনের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরবর্তীতে শারজা থেকে ওমানের দিকে যাওয়ার রাস্তার ধার থেকে একটি পরিত্যক্ত গাড়ি ও দুটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ, যার ভেতর থেকেই ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহাংশ উদ্ধার হয়। একের পর এক এমন লোমহর্ষক দেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয় ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পুলিশ উভয় ঘটনারই গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।