ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার আসল কারণ ফাঁস! সরাসরি নীতুদার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অস্কারের

ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক বহু আগেই ছিন্ন হয়েছে, তবে ক্লাব ছাড়ার পরেও লাল-হলুদ শিবিরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কর্তাদের নিয়ে ক্ষোভ কিছুতেই কমছে না প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজ়োর। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’পাতার একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে সরাসরি ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে ‘নীতুদা’-র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন অস্কার। তাঁর সাফ দাবি, ক্লাব পরিচালনায় ব্যক্তিগত রাজনীতি এবং সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের কারণেই তিনি ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
নীতুদার বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ অস্কারের সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অস্কার। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রয়েছে বলেই তাঁর ধারণা। বিবৃতিতে অস্কার লিখেছেন, সমালোচনা বা মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু বেনামী অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো এবং তার নেপথ্যে উসকানি দেওয়ার কাজগুলো অত্যন্ত গর্হিত। এই রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ মানসিকতার জন্যই পেশাদারভাবে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে জানান তিনি।
সমর্থকদের কাছে জবাবদিহির আর্জি দেবব্রত সরকার বা ক্লাবের অন্য কোনো প্রশাসনিক পদাধিকারী যদি এই অপপ্রচারের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তবে ক্লাবের তরফ থেকে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত বলে মনে করেন অস্কার। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনায় দিন দিন ক্লাবের ভাবমূর্তিই নষ্ট হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গলের অন্ধ সমর্থক ও ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, তাঁরা যেন ক্লাবকর্তাদের কাছে এই বিষয়ে কড়া জবাব চান। অতীতেও ফুটবলের চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার খেসারত দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল, আর এভাবেই চলতে থাকলে ক্লাব ফের অন্ধকারে ডুবে যাবে বলে সতর্ক করেছেন অস্কার।
পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং লাগাতার হেনস্থার মুখেই বাধ্য হয়ে তিনি এই খোলাচিঠি দিয়েছেন বলে জানান। যদিও এই চাঞ্চল্যকর আক্রমণের পর ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে অস্কারের মন্তব্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এখন প্রাক্তন কোচের এই সরাসরি এবং গুরুতর অভিযোগের পর লাল-হলুদ শিবির কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর ময়দানের।