ইসকনের রাস্তায় যানজটের বলি পর্যটকরা! বেআইনি টোটো-রিকশা নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তীর্থস্থান মায়াপুরের রাস্তায় বেআইনি টোটো ও রিকশার দাপট রুখতে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্য পরিবহণ দফতরকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
সমস্যার মূলে কী? মামলাকারীর অভিযোগ, নদিয়ার মায়াপুরে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী আসেন। অথচ, এলাকায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন টোটো ও রিকশার ব্যাপক দৌরাত্ম্যের কারণে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মূলত দুটি বড় সমস্যার কথা উঠে এসেছে আদালতে:
যানজট ও জরুরি পরিষেবা: যত্রতত্র টোটো দাঁড়িয়ে থাকার ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
বিমার অভাব: যেহেতু অধিকাংশ টোটো-রিকশার কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই, তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আক্রান্তরা বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পরিবহণ দফতর, জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশকে এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের তরফে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
রাজ্য ও ইসকনের অবস্থান এদিন শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী জানান, বিষয়টি মূলত নদিয়ার জেলা প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে রাজ্যকে কিছুটা সময় দেওয়া হলে তারা তাদের বক্তব্য পেশ করবে। অন্যদিকে, ইসকন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক পর্যায়ের, তাদের কাছে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি।
আগামী ২৩ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে হাইকোর্ট। পর্যটন নগরী মায়াপুরের রাস্তায় যানজট নিরসনে পরিবহণ দফতর শেষ পর্যন্ত কী রিপোর্ট দেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।