ইরান যুদ্ধের মাঝেই বড় আতঙ্ক: ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার মিসাইল! বড় বিপদে ট্রাম্প প্রশাসন?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা তুঙ্গে। টানা নয় রাত ধরে ইরানে একের পর এক সামরিক হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তবে যুদ্ধের এই তীব্রতার মাঝেই আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-মার্কিন যুদ্ধের এই আবহে আমেরিকার হাতে থাকা আধুনিক মিসাইল এবং এয়ার ডিফেন্সের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
কেন এই সতর্কতা?
ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য যে পরিমাণ মিসাইল মজুত থাকা প্রয়োজন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আমেরিকার হাতে নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মতে, চলমান এই যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে আকাশপথের প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘ পাল্লার মিসাইলের অভাব আমেরিকার জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, হোয়াইট হাউস হয়তো যুদ্ধের ময়দানে থাকা অস্ত্রের প্রকৃত মজুত সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা
জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেনাসদস্যদের মৃত্যুর বদলা নিতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যে জার্মানি ও ব্রিটেন থেকে এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিপুল সামরিক রসদ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো শুরু হয়েছে। ইরানকে চাপে ফেলতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে টমাহক, প্যাট্রিয়ট এবং থাড-এর মতো অত্যাধুনিক মিসাইলের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরতে আমেরিকাকে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
| মিসাইলের নাম | যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফেরার সময় |
| টমাহক | ২০৩০-৩১ |
| প্যাট্রিয়ট | ২০২৯-এর মাঝামাঝি |
| থাড (THAAD) | ২০২৯-এর শেষভাগ |
| জেএসএসএম (JASSM) | ২০২৭-এর মাঝামাঝি |
উত্তপ্ত পরিস্থিতি
জর্ডন এবং ইরাকে মার্কিন সেনাসদস্যদের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। সেন্ট্রাল কমান্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার রাতভর ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, মিসাইল লঞ্চ প্যাড এবং ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। তবে এই শক্তির লড়াইয়ে গোলাবারুদের ঘাটতি আমেরিকার কৌশলগত বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।