পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মাঝে অবশেষে স্বস্তির বার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকা ও ইরান আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হলেও, বিনিময়ে তারা যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এপি ও রয়টার্স জানাচ্ছে, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো—হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বা কো-অপারেশনের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। সহজ ভাষায়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ তেহরানের হাতে রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কার্যকর হলে সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার’ তৈরি হবে, যা আদতে ইরানের কৌশলগত জয়।
ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পারমাণবিক শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া, সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করা। এমনকি ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলি মানা হলে হরমুজ প্রণালী আর আন্তর্জাতিক জলপথ থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ইউরোপীয় কমিশন ও গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল সাফ জানিয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে কোনো বিশেষ কর বা নিয়ন্ত্রণ চাপানো সম্ভব নয়। আপাতত দুই সপ্তাহের এই বিরতি ১০ এপ্রিলের শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।





