মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সবথেকে বড় ধামাকা! ইরানের রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির মৃত্যুতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হলো। ইজরায়েলি বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই থমকে গেছে কূটনৈতিক আলোচনার সমস্ত পথ।
লারিজানি: ইরানের রাজনীতির সেই ‘সেতু’ আলি লারিজানি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন ইরানের কট্টরপন্থী এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে ঐক্যের প্রধান কারিগর। আন্তর্জাতিক মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন ‘প্র্যাগম্যাটিক’ বা বাস্তববাদী নেতা হিসেবে।
-
সংকটের ত্রাণকর্তা: গত মাসে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর থেকে লারিজানিই কার্যত পর্দার আড়াল থেকে দেশের রাশ ধরেছিলেন।
-
আলোচনার পথ: আমেরিকার সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শান্তি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই লারিজানি ছিলেন মধ্যস্থতাকারী।
কেন এই মৃত্যু চরম বিপর্যয়? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লারিজানির চলে যাওয়া মানে ইরানের রাজনীতিতে ভারসাম্যের অবসান। ১. কট্টরপন্থীদের উত্থান: লারিজানি না থাকায় এখন ইরানের শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কট্টরপন্থী রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC)-এর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। যা যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ২. কূটনীতির মৃত্যু: ইজরায়েল ও আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ‘এক্সিট পয়েন্ট’ খোঁজার মতো অভিজ্ঞ নেতা এখন তেহরানে বিরল। ৩. প্রতিশোধের আগুন: লারিজানির সাথে তাঁর ছেলে মুর্তজা এবং তাঁর দপ্তরের প্রধানও নিহত হয়েছেন। এই ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক ক্ষতি ইরানকে বড় ধরনের পাল্টা হামলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সম্পাদকের নোট: লারিজানির মৃত্যু কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক দর্শনের অবসান হতে পারে যা ইরানকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিল। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এই ‘টার্গেটেড কিলিং’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।