মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের উত্তাপের মাঝেই ইরানের অন্দরমহল থেকে এল এক বিস্ফোরক খবর। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত তাঁর মেজো ছেলে মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) বর্তমানে গভীর কোমায় আচ্ছন্ন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার তাগিদে তাঁর একটি পা-ও বাদ দিতে হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই খবর যদি সত্যি হয়, তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে।
রহস্যময় অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচার: বেশ কয়েকদিন ধরেই ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল (Sepsis)। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চিকিৎসকরা তাঁর জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না বলে দাবি করা হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হলেও, পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরকে ইরানের ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ হিসেবে দেখছে।
উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা: আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বয়স এখন ৮৫ ছাড়িয়েছে। গত বছরই জল্পনা উঠেছিল যে তিনি গোপনে মোজতবাকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু মোজতবার এই আকস্মিক শারীরিক বিপর্যয় ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর মধ্যে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উসকে দিতে পারে। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে আকাশছোঁয়া উত্তেজনা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের শূন্যতা—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে। মোজতবা যদি ফিরে না আসেন, তবে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কার হাতে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।