এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ গোটা দেশ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের ১২তম দিনে এসে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে খামেনেই প্রশাসন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল রাস্তা নয়, ঘর থেকেও মানুষ সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভ দমনে ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ জারি করা হয়েছে। এমনকি স্যাটেলাইট সিগন্যাল জ্যাম করার প্রচেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাবরিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে এবং জারি হয়েছে ‘নোটাম’।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও রেজা পাহলভির বার্তা: এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এক্স হ্যান্ডলে এক বার্তায় যুবরাজ রেজা পাহলভি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আজ রাতে লক্ষ লক্ষ ইরানি স্বাধীনতার দাবিতে সরব। শাসকগোষ্ঠী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।” একইসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরান প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, “যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর হিংসা ছড়ানো হয় বা মানুষ মারা শুরু হয়, তবে আমেরিকা কঠোর পদক্ষেপ নেবে।”
মৃত্যুমিছিল ও ধরপাকড়: হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, এই গণবিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২,২৬০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করছে সরকার। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশের অধিকাংশ বাজার বন্ধ ছিল। নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানের বড় অংশ এখন অনলাইন দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
যুবরাজ রেজা পাহলভি শুক্রবার রাত ৮টায় ফের জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “গোটা বিশ্ব এবং ট্রাম্পের নজর এখন আপনাদের ওপর। দমন-পীড়নের জবাব দিতেই হবে।” আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই আন্দোলন ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।