‘ইরানকে অস্ত্র দিলেই ৫০% শুল্ক!’ হুঙ্কার ট্রাম্পের, আমেরিকার নয়া হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে বিশ্ব বাণিজ্য

হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নিজের মারকুটে মেজাজে ধরা দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি ইরান এবং সেই সমস্ত দেশ, যারা তেহরানকে সামরিক রসদ জোগাচ্ছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে দেশ ইরানকে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, সেই দেশের ওপর আমেরিকা সরাসরি ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বা ট্যারিফ চাপাবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো, যাদের সঙ্গে ইরানের সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে সবথেকে বেশি।

কেন এই চরম পদক্ষেপ?

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে এবং তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। ট্রাম্পের কথায়, “যাঁরা আমাদের শত্রুদের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিচ্ছেন, তাঁরা আমেরিকান বাজারে সুবিধা পাবেন না। হয় ইরানের সঙ্গে হাত মেলান, নয়তো আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করুন—সিদ্ধান্ত আপনাদের।”

কারা পড়তে পারে বিপাকে?

  • চীন: ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ট্রাম্পের এই নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হবে।

  • রাশিয়া: ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির ওপর রুশ নির্ভরতা বেড়েছে। এই নতুন শর্ত পুতিন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

  • ইউরোপীয় দেশগুলো: যারা ইরানের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তারা এখন ওয়াশিংটনের কোপে পড়ার ভয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের পথে না গিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াই ট্রাম্পের আসল কৌশল। এই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন দেখার, ট্রাম্পের এই ‘ট্যারিফ কার্ড’-এর জবাবে ইরান বা তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো কী পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে কি তবে নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ছায়া নামবে? প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy