ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় তুলকালাম! ৭টি কেন্দ্রে জমায়েত নিষিদ্ধ করল পুলিশ, রণক্ষেত্র কলকাতা?

ভোট মিটতেই কি ইভিএম কারচুপির খেলা শুরু? বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই আশঙ্কাতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মহানগরীর একাংশ। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিক্ষোভ এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণংদেহি মেজাজের পর বড় পদক্ষেপ নিল লালবাজার। শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হলো ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা)।

মধ্যরাতে রাজপথে মুখ্যমন্ত্রী: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা অভিযোগ তোলেন, কমিশনের আধিকারিকরা নিয়ম ভেঙে ইভিএম খোলার চেষ্টা করছেন। এর পরেই পরিস্থিতি সামলাতে মধ্যরাতে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা চার ঘণ্টা সেখানে ঠায় বসে থাকেন তিনি। রাত ১২টার পর নেত্রী যখন এলাকা ছাড়ছেন, তখন ‘জয় বাংলা’ এবং পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে।

পুলিশের কড়া অবস্থান: বৃহস্পতিবার রাতের এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামার পরেই তৎপর হন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। বিশৃঙ্খলা রুখতে শহরের ৭টি স্ট্রংরুম চত্বরে বিএনএসএস ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে এই এলাকাগুলোতে ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

যে ৭ জায়গায় কড়া নজরদারি:

  • ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র

  • শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল

  • হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স

  • এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ (যাদবপুর)

  • সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুল (ডায়মন্ড হারবার রোড)

  • বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল

  • বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি

কমিশনের সাফাই: যদিও তৃণমূলের তোলা কারচুপির অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সমস্ত ইভিএম ডবল লকারে এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy