দীর্ঘ কয়েক মাসের প্রচারের পারদ আর দফায় দফায় ভোটগ্রহণের পালা শেষ। বাংলার রাজপথ এখন অনেকটাই শান্ত, কিন্তু রাজনৈতিক অন্দরে বইছে উত্তেজনার চোরাস্রোত। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই এখন সবার নজর গণনাকেন্দ্রের দিকে। বাংলা কার দখলে যাবে? নবান্নে কি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক হবে, নাকি শুভেন্দু-সুকান্তদের নেতৃত্বে বাংলায় ফুটবে পদ্মফুল— এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
জয়ের অঙ্কে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল: ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বাংলার মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদ তাদের সাথেই আছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই তাদের জয়ের তুরুপের তাস হতে চলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, “মানুষ দু’হাত উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, এটা কেবল সময়ের অপেক্ষা।” বুথ স্তরের রিপোর্ট দেখে শাসক দল ইতিমধ্যেই বিজয় উৎসবের প্রাথমিক ছকও কষে ফেলেছে বলে সূত্রের খবর।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের: অন্যদিকে, দমে যাওয়ার পাত্র নয় বিজেপি-ও। পরিবর্তন এবং দুর্নীতির অবসান— এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে এবার সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছিল তারা। পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, এবার নিভৃতে ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটিয়েছে বাংলার মানুষ। তাদের বিশ্বাস, উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই সাধারণ মানুষ গেরুয়া শিবিরের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। দলের অন্দরের বিশ্লেষণ বলছে, এবার ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই ছুঁয়ে ফেলবে বিজেপি।
অপেক্ষায় থমথমে বাংলা: দুই হেভিওয়েট দলের এই আত্মবিশ্বাসের লড়াইয়ে এখন উত্তপ্ত বাংলার চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িংরুম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার লড়াই হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। কারুর জন্য দাক্ষিণাত্য, কারুর জন্য জঙ্গলমহল— কোথায় কে কাকে টেক্কা দিল, তার উত্তর এখন সযত্নে রাখা আছে স্ট্রংরুমের ইভিএম-এ। আপাতত আগামী ২ মে-র সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য।
ভোটের ফল প্রকাশের দিন সবথেকে দ্রুত এবং নির্ভুল আপডেট পেতে নজর রাখুন ডেইলিয়ান্টে। আপনার এলাকায় কার জেতার সম্ভাবনা বেশি? কমেন্টে আমাদের জানান।





