দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে একটি ঐতিহাসিক ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশিই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সিলমোহর দিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৌশলগত প্রতিক্রিয়া। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আধিপত্য ও সামরিক ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির মাধ্যমে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করল।
এই নতুন চুক্তিটি তিনটি মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে গঠিত, যা ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে শক্তিশালী করবে:
১. কৌশলগত লজিস্টিক সহায়তা (Strategic Logistics): উভয় দেশ একে অপরের সেনা ঘাঁটি, লজিস্টিক সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবে, যা দ্বিপাক্ষিক সামরিক অংশীদারিত্ব এবং কৌশলগত প্রস্তুতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
২. যৌথ উৎপাদন (Joint Production): প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যৌথ উৎপাদন এবং উন্নয়নকে উৎসাহ দেওয়া হবে।
৩. প্রযুক্তি স্থানান্তর (Technology Transfer): ভারতের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বদেশী প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে সহায়তা করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ একসঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করবে। এটি দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত মহাসাগরে চীনের আক্রমণাত্মক নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরিতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।





