সোমবার সিবিআই আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়েও যাঁর হদিশ পাননি, সেই আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি মঙ্গলবার নাটকীয়ভাবে শিয়ালদহ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন। আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আখতারের দাবি, তিনি স্রেফ ‘পরিস্থিতির শিকার’। আদালত থেকে বেরোনোর সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ইনোসেন্টলি কিছু ভুল করেছিলাম। দাদার চিকিৎসার জন্য টাকা ধার নিয়েছিলাম। আমি কোনো দোষ করিনি, এটা নিছক ব্যাড লাক।”
এদিন আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী কড়া অবস্থান নিয়ে জানান, আখতার আলি আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন। তাই তাঁকে জেল হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আমার মক্কেল একা নন, আখতার আলিও এই দুর্নীতিতে সমানভাবে অভিযুক্ত। অথচ সিবিআই ওঁকে পরে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেড় বছর ধরে সন্দীপ ঘোষ জেল খাটছেন, কিন্তু আখতার হাজিরা এড়িয়ে মামলার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন।
সোমবার কেন হাজিরা দেননি? এই প্রশ্নের জবাবে আখতারের আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কারণ তুলে ধরেন। আদালতে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বরের কিছু মেডিকেল রিপোর্ট পেশ করা হয়। যদিও বিচারক রিপোর্টের অসংগতি লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলেন। সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীর সওয়াল ছিল, “কোর্টের অর্ডার ভায়োলেন্ট করা হয়েছে। আদালতের সম্মান রক্ষা করা জরুরি।”
পুরো শুনানির পর বিচারক তাঁর রায় সংরক্ষিত রেখেছেন। সিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী আখতারের এই অনুপস্থিতি আদালত অবমাননার শামিল। অন্যদিকে, আখতারের সাফাই— “কাল খুব ব্যথা হচ্ছিল, তাই উঠতে পারছিলাম না।” আরজি করের এই ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র জালে এখন প্রাক্তন ডেপুটি সুপারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।