আপনার বাড়ির এসি কিংবা ফ্যান দিনে কতক্ষণ চলে? মাস শেষে ইলেকট্রিক বিলই বা কত আসে? আইটি জায়ান্ট ইনফোসিস (Infosys) এখন ঠিক এই প্রশ্নগুলোই করছে তাদের কর্মীদের। শুনতে অবাক লাগলেও, বাড়ি থেকে কাজ করা বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) কর্মীদের কাছে তাঁদের ব্যক্তিগত বিদ্যুতের ব্যবহারের বিস্তারিত খতিয়ান চাইল এই সংস্থা।
কেন এমন অদ্ভূত দাবি?
সম্প্রতি ইনফোসিসের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (CFO) জয়েশ সংঘরাজকা কর্মীদের একটি বিশেষ ইমেল পাঠিয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, সংস্থা তাদের পরিবেশগত প্রভাব বা কার্বন ফুটপ্রিন্ট (Carbon Footprint) পরিমাপের জন্য একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে। ইনফোসিসের মতে, হাইব্রিড মডেলে কর্মীরা এখন অনেকটা সময় বাড়িতে কাজ করছেন। ফলে অফিসের পাশাপাশি কর্মীদের বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎও পরোক্ষভাবে সংস্থার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের আওতায় পড়ে।
সমীক্ষায় কী কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
সংস্থাটি কর্মীদের জন্য একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে, যা পূরণ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগবে। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে:
-
বাড়িতে ফ্যান, এসি বা রুম হিটার কতক্ষণ চলে?
-
আলোর ব্যবহার বা আলোর ধরণ কেমন?
-
বাড়িতে সৌরশক্তি (Solar Energy) ব্যবহার করা হয় কি না?
-
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কর্মী নিজে কোনো উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না?
পরিবেশ রক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ?
ইনফোসিস দাবি করেছে, তারা ২০০৮ সাল থেকে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৫৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই ‘কার্বন নিউট্রালিটি’ অর্জন করেছে। ৩ লক্ষেরও বেশি কর্মীর এই সংস্থাটি এখন চাইছে তাদের পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যমাত্রাকে অফিসের চার দেওয়াল ছাড়িয়ে কর্মীদের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে।
তবে কর্মীদের একাংশের মধ্যে এই সমীক্ষা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে এটি স্রেফ সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা হলেও, ব্যক্তিগত ইলেকট্রিক বিলের তথ্য চাওয়াকে অনেকেই গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, এই তথ্যের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো।