ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)-এর চন্দ্রযান-২ চাঁদের বায়ুমণ্ডল এবং মহাকাশের আবহাওয়া সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আমূল বদলে দেওয়ার মতো এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছে। এই প্রথমবার চন্দ্রযান-২ চাঁদে সূর্যের করোনাল মাস ইজেকশন (CME)-এর সরাসরি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তা নথিবদ্ধ করেছে।
বিরল ঘটনা রেকর্ড করল CHACE-2
চন্দ্রযান-২-এ থাকা ‘CHACE-2’ (Chandra’s Atmospheric Composition Explorer-2) যন্ত্রটি এই বিরল ঘটনা রেকর্ড করেছে। ১০ মে, ২০২৪-এ সূর্য থেকে নির্গত শক্তিশালী CME যখন চাঁদে আঘাত হানে, তখন এর এক্সোস্ফিয়ারের চাপ ও ঘনত্ব দশগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটিই হলো CME-এর চাঁদের ওপর সরাসরি আঘাত হানার প্রথম সুনিশ্চিত প্রমাণ।
চাঁদের কোনো ঘন বায়ুমণ্ডল নেই, বরং রয়েছে পাতলা এক্সোস্ফিয়ার। যেহেতু পৃথিবীর মতো চাঁদের নিজস্ব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নেই, তাই সূর্যের CME সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানতে পারে। এই আঘাতের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পরমাণু ছিটকে যায় এবং এক্সোস্ফিয়ারের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যৎ মানব বসতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার
ইসরো জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণ চাঁদে ভবিষ্যতে মানব বসতি বা স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশ স্থপতিদের এখন অবশ্যই এই চরম সৌর ঘটনাগুলি মাথায় রাখতে হবে, যা চাঁদের পরিবেশকে সাময়িকভাবে কিন্তু তীব্রভাবে বদলে দিতে পারে।
ইসরো আরও জানিয়েছে, এই আবিষ্কার চাঁদের পাতলা এক্সোস্ফিয়ার এবং সৌর বায়ুর সঙ্গে তার মিথস্ক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের আরও বিশদ গবেষণা করতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।