তিনি ভারতের ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা’ (NSA)। দেশের প্রতিটি গোপন অপারেশনের নীল নকশা তৈরি হয় তাঁর মস্তিস্কে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও কি সত্যিই ফোন বা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকেন অজিত দোভাল? রবিবার ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’-এ এই বহুচর্চিত রহস্যের পর্দা তুললেন খোদ ভারতের এই মাস্টারমাইন্ড।
ফোন-ইন্টারনেট নিয়ে দোভালের গোপন মন্ত্র: অনুষ্ঠানে এক যুবক সরাসরি প্রশ্ন করেন— তিনি কি সত্যিই মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না? মৃদু হেসে দোভাল জানান, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজন ছাড়া তিনি ফোন স্পর্শ করেন না। তবে কাজ কীভাবে চলে? প্রাক্তন এই গোয়েন্দা প্রধানের উত্তর, “যোগাযোগের আরও অনেক মাধ্যম আছে। আমরা কিছু অতিরিক্ত বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করি যা সাধারণ মানুষের অগোচরেই থাকে।” অর্থাৎ, প্রযুক্তির জালে ধরা না দিয়েই যে তিনি দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করেন, তা এদিন স্পষ্ট করে দিলেন কেরালা ক্যাডারের এই বর্ষীয়ান আইপিএস অফিসার।
“ইতিহাসের প্রতিশোধ নিতে হবে”: তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে এদিন দোভালের কণ্ঠে ছিল দেশপ্রেমের আগুন। নিজের জন্ম ঔপনিবেশিক ভারতে হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তোমরা ভাগ্যবান যে স্বাধীন ভারতে জন্মেছ। আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য চরম অপমান সহ্য করেছেন, ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছেন। মন্দির লুট হয়েছে, গ্রাম ধ্বংস হয়েছে— অসহায়ের মতো তা দেখতে হয়েছে আমাদের।”
ইতিহাসের সেই ‘যন্ত্রণাদায়ক’ অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি এক নতুন ধরণের ‘প্রতিশোধের’ ডাক দেন। দোভালের কথায়, “আমাদের ইতিহাসের প্রতিশোধ নিতে হবে। তবে সেই প্রতিশোধ নেতিবাচক নয়। দেশকে এমন এক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে যাতে বিশ্বের কোনো শক্তি আর আমাদের দিকে আঙুল তোলার সাহস না পায়।”
ভারতের রক্ষাকবচ দোভাল: কর্মজীবনের সিংহভাগ সময় গোয়েন্দা বিভাগে কাটানো অজিত দোভাল বর্তমানে ভারতের পঞ্চম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এদিনের আলোচনা থেকে স্পষ্ট, কেবল সীমান্তে নয়, ডিজিটাল যুগে নিজেকে আড়ালে রেখে দেশ গঠনে তরুণদেরও শক্তিশালী হওয়ার বার্তা দিলেন তিনি।