দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফাল্টায় ‘সিংহাম’ অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন নির্বাচন কমিশনের পুলিশ অবজার্ভার অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই দাপুটে আইপিএস অফিসারের অতি-সক্রিয়তা নিয়ে এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। তবে মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে বড় মন্তব্য করলেন বিচারপতি। আদালত সাফ জানিয়ে দিল, এই মুহূর্তে কমিশনের নিয়োগ বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ‘হস্তক্ষেপ করা হবে না’।
কেন এই মামলা? উত্তরপ্রদেশের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস ফাল্টার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “পরে কান্নাকাটি করে লাভ নেই, কায়দা মতো চিকিৎসা করা হবে।” শাসক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, অবজার্ভার হয়ে তিনি প্রোটোকল ভাঙছেন এবং ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলাটি বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে উঠলে আদালত জানায়:
ভোটের এই অন্তিম পর্যায়ে কমিশন কাকে নিয়োগ করবে, সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাবে না।
ভোটের ডিউটি চলাকালীন কোনো অফিসারের বিরুদ্ধে এখনই কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তবে নির্বাচনের পর যদি কোনো প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
সিংহাম বনাম পুষ্পা লড়াই: অজয় পাল শর্মার এই মেজাজ দেখে তাঁকে ‘সিংহাম’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। তিনি পাল্টে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করে বলেন, “উনি সিংহাম হলে আমি পুষ্পা, ঝুকব না।” শাসক দলের দাবি, বিজেপি-র তল্পিবাহক হিসেবে তাঁকে এই জেলায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি-র দাবি, যারা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, তাদের জন্যই এই দাওয়াই দরকার ছিল।
কমিশনের অবস্থান: কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট করাতেই অজয় পাল শর্মার মতো কড়া অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। হাইকোর্টের আজকের নির্দেশের পর ফাল্টা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই পুলিশ অবজার্ভারের ক্ষমতা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





