ইউপি বোর্ডের বড় সিদ্ধান্ত! ১০ম শ্রেণির সার্টিফিকেটে জন্মতারিখ বদলানো কি এবার প্রায় অসম্ভব?

মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ হাইস্কুল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটে জন্মতারিখ (DOB) সংশোধনের নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি আনল। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের জন্মতারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং প্রথমবার স্কুলে প্রবেশের সময় জমা দেওয়া বৈধ নথিপত্রকেই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?
বোর্ডের সচিব ভগবতী সিংয়ের মতে, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলিতে জন্মতারিখ সংশোধনের নামে জালিয়াতির বহু অভিযোগ সামনে আসছিল। অনেকেই পরবর্তীতে ভুয়া টিসি (Transfer Certificate) বা ত্রুটিপূর্ণ নথি জমা দিয়ে বয়স পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুটির স্কুলে ভর্তির সময়ে নির্ধারিত বয়সও ঠিক ছিল না। এই অনিয়ম রুখতেই বোর্ড এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে?

প্রথম প্রবেশই চূড়ান্ত: ছাত্র-ছাত্রীর প্রথমবার স্কুলে ভর্তির সময় যে বৈধ বয়স প্রমাণপত্র (Age Proof) জমা দেওয়া হয়েছিল, কেবল সেই রেকর্ড অনুসারেই জন্মতারিখ নির্ধারিত হবে।

মূল রেকর্ড সংরক্ষণ: স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভর্তির সময়ের আসল নথিপত্র অত্যন্ত সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সংশোধনে কড়া যাচাই: পরবর্তীতে জন্মতারিখ বদলের আবেদন করা হলে, প্রতিটি নথি ও পুরনো রেকর্ড অত্যন্ত গভীরভাবে যাচাই করা হবে।

শিক্ষা অধিকার আইন (RTE) অনুযায়ী ক্লাস ওয়ানে ভর্তির ক্ষেত্রে ৬ বছর বয়স নির্ধারিত। জন্ম সার্টিফিকেট না থাকলে হাসপাতালের রেকর্ড, এএনএম (ANM) রেকর্ড, অঙ্গনওয়াড়ির নথি বা বাবা-মায়ের দেওয়া শফপতপত্র গ্রহণযোগ্য হবে। বোর্ডের এই কড়া পদক্ষেপে সার্টিফিকেট জালিয়াতির প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।