ইউনূস সরকারের আমলে কি বাংলাদেশে বাড়ছে নিপীড়ন? ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থাৎ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওকিং এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এই আবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমাগত হামলা ও নিপীড়নের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আবেদনকারীরা ব্রিটিশ সংসদে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে চরমপন্থী সহিংসতা এবং রাজনৈতিক আক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের ওপর হয়রানি এবং অপরাধের ঘটনাও বেড়েছে। তাদের দাবি, যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অভাব রয়েছে, তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এই আবেদনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে:

ব্রিটিশ সরকারকে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

জাতিসংঘের কাছে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে হবে।

দোষীদের জবাবদিহি করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিভিন্ন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার রিপোর্টও এই অভিযোগকে সমর্থন করছে। ডিডব্লিউ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ২০২৪ সালের বড়দিনের আগের দিন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় খ্রিস্টান ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৭টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা আরআরএজি-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইউনূস সরকারের প্রথম ১০০ দিনে প্রায় ২,৭২,০০০ জনের বিরুদ্ধে ১,৫৯৮টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত চারজন উপজাতি নিহত এবং ৭৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

এই আবেদনের জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন বিষয়ক উপমন্ত্রী ক্যাথেরিন ওয়েস্ট বলেন, ব্রিটেন মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনের মানবাধিকার দূত এলিনর স্যান্ডার্স বাংলাদেশ সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়া, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্যাথেরিন ওয়েস্ট নিজেও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সরাসরি মানবাধিকার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন জোরদার করতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।