আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বড়সড় চমক। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিরতি কাটিয়ে ফের সরাসরি আকাশপথে যুক্ত হতে চলেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে ননস্টপ বিমান পরিষেবা শুরু করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০২৪-এর আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার এটিই সবথেকে বড় নিদর্শন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ফ্লাইট সূচি ও পরিকল্পনা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দু’দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই রুটে উড়ান চালানো হবে।
-
ঢাকা থেকে রওয়ানা: রাত ৮:০০ টায়।
-
করাচি পৌঁছানো: রাত ১১:০০ টায় (স্থানীয় সময়)।
-
ফিরতি পথে রওয়ানা: করাচি থেকে রাত ১২:০০ টায়।
-
ঢাকা পৌঁছানো: ভোর ৪:২০ মিনিটে। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্লাইট চলবে।
ভারতের আকাশসীমা নিয়ে রহস্য
ঢাকা থেকে করাচি যাওয়ার সবথেকে সংক্ষিপ্ত আকাশপথটি ভারতের ওপর দিয়ে যায়। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বিমান কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তাঁরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েছেন। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত বা বিবৃতির কথা সামনে আসেনি। যদি ভারত অনুমতি না দেয়, তবে বিমানটিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে মায়ানমার বা সমুদ্রপথ হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছাতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে।
ম্যানচেস্টার বন্ধ করে করাচি?
বিমানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের অভ্যন্তরেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। চলতি সপ্তাহেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের লাভজনক ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটটি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রবাসীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই রুট বন্ধ করে লোকসানে থাকা করাচি রুট পুনরায় চালু করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৪-এর পর বদলে যাওয়া সমীকরণ
২০১২ সালের পর শেখ হাসিনা সরকারের জমানায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শীতলতার কারণে এই বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে বিমান চলাচল—সর্বত্রই এক ‘নতুন হাওয়া’ বইতে শুরু করেছে।