ইউটিউবের ‘সিক্রেট হাউস গেম’ দেখে ঘরছাড়া দুই শিশু! সোশ্যাল মিডিয়ার কোন কোন মারাত্মক ট্রেন্ডে ভাসছে নতুন প্রজন্ম?

উত্তরপ্রদেশের মীরাটের হস্তিনাপুর এলাকায় সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বিপজ্জনক ট্রেন্ডের জেরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে। ইউটিউবে ‘সিক্রেট হাউস গেম’-এর একটি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এগারো এবং সাত বছর বয়সি দুটি শিশু হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার চারদিকে খোঁজখবর নিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়। জানা যায়, ওই ভিডিও দেখে ২৪ ঘণ্টার হাইডিং চ্যালেঞ্জ বা লুকিয়ে থাকার চ্যালেঞ্জ পূরণের জন্য তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি নিজন এলাকায় আস্তানা গড়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও মিশন শক্তির তৎপরতায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনা একা নয়, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ডার্ক সাইড বা অন্ধকার দিকটি শিশুদের জন্য প্রতিনিয়ত বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিনিয়ত এমন অনেক চ্যালেঞ্জ ভাইরাল হয়, যা বিনোদনের বদলে শিশুদের জীবনের ওপর মারাত্মক হুমকি ডেকে আনে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ’ বা ‘পাস আউট চ্যালেঞ্জ’। এই ট্রেন্ডে শিশুদের নিজ গলায় চাপ দিয়ে জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত শ্বাস আটকে রাখতে উৎসাহিত করা হয়। টিকটকে অত্যন্ত দ্রুত ভাইরাল হওয়া এই ট্রেন্ডের কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা বহু শিশুর মৃত্যুর কারণও হয়েছে। একইভাবে ‘ডিভিয়াস লিকস’ চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন জনবহুল স্থানে জিনিসপত্র চুরি করা এবং ভাঙচুর চালানোর মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যা শিশুদের আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নেটফ্লিক্সের একটি জনপ্রিয় ছবি থেকে অনুপ্রাণিত ‘বার্ড বক্স চ্যালেঞ্জ’ কিংবা ‘সল্ট অ্যান্ড আইস চ্যালেঞ্জ’-এর মতো ট্রেন্ডগুলোতেও চোখে পট্টি বেঁধে চলাফেরা করা কিংবা ত্বকে বরফ ও লবণ দিয়ে সহ্য করার মতো বিপজ্জনক পরীক্ষা চালাতে দেখা গেছে, যা মারাত্মক শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই বিপজ্জনক প্রবণতা থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবক ও সমাজকে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার শিশুদের জীবনযাত্রার একটি অংশ হয়ে দাঁড়ালেও এর খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা দেওয়া আবশ্যক। অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত শিশুদের স্ক্রিন টাইম ও তাদের অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালানো। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করে ইন্টারনেট জগতের ভালো-মন্দের তফাত বুঝিয়ে দিতে হবে, যাতে লাইক বা ভিউয়ের লোভে কোনো শিশু নিজের জীবন বিপন্ন না করে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty