দালালের দিন শেষ! আলুর মতো এবার বসছে পাটের হাট, নিজেই দাম ঠিক করছেন মুর্শিদাবাদের চাষিরা!

মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল হল পাটচাষ। আর এই পাট চাষকে কেন্দ্র করেই এবার এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় পদক্ষেপ নিলেন স্থানীয় কৃষকরা। বাজারে কালোবাজারি, কৃত্রিম মজুতদারি এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার চাষিরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে পাটের খোলা হাটের আয়োজন করেছেন। আলু, পটল কিংবা অন্যান্য সবজির মতো এবার মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় বসেছে সুনির্দিষ্ট পাটের হাট। সাধারণ পাটচাষিরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য পান, সেই লক্ষ্যেই এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাদে প্রতিদিন বিকেলে হরিহরপাড়ার গজনীপুরে এই জমজমাট পাটহাট বসে। এই হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এখানে চাষিরা নিজেরা দাঁড়িয়ে পাটের দাম নির্ধারণ করেন। ব্যবসায়ী ও আড়তদারেরা চাষিদের নির্ধারিত সেই দাম এবং বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পাট কিনতে বাধ্য হন। যে কোনো প্রান্তের পাটচাষি ও ব্যবসায়ী এই উন্মুক্ত হাটে এসে অবাধে পাট কেনাবেচা করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিযোগিতামূলক দামে পাট বিক্রির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনই মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর কৃষকদের দীর্ঘদিনের নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

চাষিদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গ্রীষ্মের শেষভাগে রোপণ করা পাট বর্ষার মরশুমে পরিপক্ব হয়ে ওঠে। এরপর দীর্ঘ দু’সপ্তাহ ধরে সঠিকভাবে জাগ দিয়ে পাটখড়ি থেকে সোনালী আঁশ আলাদা করার কাজ চলছে। তবে এই সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে সার, কীটনাশক ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি বাবদ কৃষকদের বেশ ভালোই খরচ করতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও চলতি মরশুমে পাটের ফলন গতবারের তুলনায় যেমন দারুণ হয়েছে, তেমনই বাজারেও মিলছে ভালো দাম। হরিহরপাড়ার চাষিদের এই স্বাবলম্বী উদ্যোগ একদিকে যেমন তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ফাটকা বাজার ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে এক চরম মোক্ষম জবাব হয়ে উঠেছে।