বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর আগে মহাগঠবন্ধনের অন্দরের সংঘাত এখন প্রকাশ্যে। আসন রফা চূড়ান্ত না হওয়া সত্ত্বেও সোমবার রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ১৪৩টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে লালু-তেজস্বীর দলের এই পদক্ষেপে রাজ্যে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরজেডি’র গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীরা:
লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডি এবার ২০২০ সালের তুলনায় একটি কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাদের প্রকাশিত তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ যাঁরা লড়ছেন:
তেজস্বী যাদব: বৈশালী জেলার রাঘোপুর বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চন্দ্র শেহখর: মাধেপুরা থেকে লড়াই করবেন।
বীণা দেবী (সুরভনের স্ত্রী): মোকামা আসন থেকে লড়ছেন।
উদয় নারায়ণ চৌধুরী: ঝাঝা আসন থেকে ‘হ্যারিকেন’ প্রতীকে লড়াই করছেন।
মহাগঠবন্ধনের সঙ্গে চলমান বিরোধের কারণেই আরজেডি আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের আগেই তাদের সমস্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করে দিয়েছিল।
আপ-এর একক লড়াই:
আরজেডি’র পাশাপাশি এদিন আম আদমি পার্টিও (আপ) তাদের চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এই দফায় আরও ১২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে আপের মোট ঘোষিত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩২।
আপ জানিয়েছে, তারা এবার বিহারে ২৪৩টি আসনেই প্রার্থী দেবে।
জোটের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে কেজরিওয়াল মডেলকে হাতিয়ার করেই নির্বাচন লড়ার ঘোষণা করেছে আপ।
চতুর্থ তালিকায় মধুবন আসনে কুমার কুণাল, সুপল থেকে ব্রিজ ভূষণ (নবীন) এবং গয়া শহর আসন থেকে অনিল কুমারের নাম রয়েছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ সংকট:
আসন রফা চূড়ান্ত না-হওয়ায় মহাগঠবন্ধনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আরজেডি ও আপ ছাড়াও কংগ্রেস (৪৮ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা ঘোষণা করেছে) এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেওয়া শুরু করেছে। এমনকি জেএমএম আসনরফা চূড়ান্ত না-হওয়ায় একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ এবং ১১ নভেম্বর বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল বের হবে ১৪ নভেম্বর।