আলু ছেড়ে শাকআলুতেই কপাল ফিরল! বাদুড়িয়ার মাঠে চাষিদের মুখে এখন কোটি টাকার হাসি!

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের চাষিরা চিরাচরিত আলু বা ধান চাষের পথ ছেড়ে এবার এক নতুন কৃষি বিপ্লবের পথে পা বাড়িয়েছেন। আর সেই বিপ্লবের নাম ‘শাকআলু’ (Yam Bean)। একটা সময় ছিল যখন শাকআলু ছিল কেবল শখের বা বাড়ির বাগানের ফল, কিন্তু বর্তমানে বাদুড়িয়ার দিগন্তবিস্তৃত মাঠে বাণিজ্যিকভিত্তিতে এই চাষ করেই লাভের মুখ দেখছেন শত শত কৃষক। আলুর তুলনায় অনেক কম ঝুঁকি এবং বিপুল মুনাফাই কৃষকদের এই নতুন ট্রেন্ডের দিকে আকৃষ্ট করছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আলু চাষে সারের খরচ এবং রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। উল্টোদিকে, শাকআলু চাষে জলের চাহিদা যেমন কম, তেমনি কীটনাশকের খরচও নেই বললেই চলে। বাদুড়িয়ার বেলে-দোঁয়াশ মাটি এই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, বিঘা প্রতি আলু চাষ করে যেখানে লাভের অঙ্ক সীমিত থাকে, সেখানে শাকআলু চাষ করে কৃষকরা দ্বিগুণ বা তারও বেশি মুনাফা ঘরে তুলছেন। বিশেষ করে বসিরহাট এবং বাদুড়িয়ার এই সুস্বাদু শাকআলুর চাহিদা এখন কেবল কলকাতা নয়, প্রতিবেশী রাজ্য ও বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।

কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, বাদুড়িয়া ব্লকের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এবার শাকআলুর ফলন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। উন্নত মানের বীজের ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাচা ও নিড়ানি দেওয়ার ফলে ফলনের গুণমানও বেড়েছে। বাজারে চাহিদা তুঙ্গে থাকায় মাঠ থেকেই পাইকারি দরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ ফসল। অনেক কৃষক এখন ধানের পর বিঘার পর বিঘা জমিতে শাকআলু রোপণ করছেন। বাদুড়িয়ার এই নতুন ‘এগ্রিকালচার ট্রেন্ড’ এখন গোটা জেলার কৃষকদের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy