লোকসভা নির্বাচনের মুখে নজিরবিহীন পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল জোড়াফুল শিবির। সোমবার মধ্যরাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, এই সাংবিধানিক পদাধিকারীকে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সই সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটবে তাঁর দল। তবে একজন কমিশনারকে সরানো সহজ নয়; উচ্চ আদালতের বিচারপতির মতোই কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এই ইমপিচমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে অন্তত ১০০ জন সাংসদের সমর্থকসূচক স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১, তাই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলির দ্বারস্থ হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা।
বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে স্রেফ ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ইমপিচমেন্ট আনার মতো ক্ষমতা বা সংখ্যাতত্ত্ব তৃণমূলের নেই। এখন দেখার, জাতীয় রাজনীতির ময়দানে মমতার এই মাস্টারস্ট্রোক মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে পারে কি না, নাকি বিরোধী জোটের ঐক্য স্থাপনেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে।