বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড়সড় সংকটের মেঘ। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে বেরিয়ে এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকা এখন আর এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য নয়। ইতিপূর্বেই জেনিভায় হু-এর সদর দফতরের বাইরে থেকে আমেরিকার জাতীয় পতাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম পদক্ষেপে কার্যত স্তব্ধ আন্তর্জাতিক মহল।
কেন এই বিচ্ছেদ? মার্কিন স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা কোনো পর্যবেক্ষক হিসেবেও হু-তে থাকতে চাই না। এমনকি নতুন করে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই।” আসলে কোভিড অতিমারীর সময় থেকেই আমেরিকার সঙ্গে হু-এর সংঘাত চরমে পৌঁছায়। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, করোনা পরিস্থিতি সামলাতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই সংস্থা এবং তারা একটি নির্দিষ্ট দেশের পক্ষাবলম্বন করেছে। সেই তিক্ততা থেকেই আজ চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে হাঁটল হোয়াইট হাউস।
তবে এই প্রস্থান মসৃণ নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো সংস্থা ছাড়তে হলে এক বছর আগে নোটিশ দিতে হয় এবং সমস্ত বকেয়া মেটাতে হয়। হু-এর দাবি, ২০২৪-২৫ সালের সদস্যপদ ফি বাবদ আমেরিকার কাছে তাদের ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই বকেয়া মেটানোর আইনি বাধ্যবাধকতাকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের সাফ কথা, মার্কিন নাগরিকদের করের টাকা আর এই সংস্থায় নষ্ট করা হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকার মতো বড় দাতা দেশ বেরিয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এটি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়।