‘আর আগের মতো শক্তি নেই!’ মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য নীতিন গড়কড়ির!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের জল্পনার আবহে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি খোলামেলা স্বীকার করেন যে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজের গতি ও শারীরিক পরিধি কিছুটা কমে এসেছে। তাই দলের স্বার্থেই এবং কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবার তরুণ প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কাটাছেঁড়া।
নাগপুরের ওই জনবহুল অনুষ্ঠানে গড়কড়ি অত্যন্ত আবেগঘন ও বাস্তবসম্মত সুরে বলেন, “আগে আমি যতটা কাজ করতে পারতাম, এখন ঠিক ততটা দ্রুতগতিতে কাজ করা আর সম্ভব হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। তাই দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবার নতুন প্রজন্মকে প্রধান সুযোগ করে দেওয়া উচিত।” বিগত ৩০ বছর ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে নিজের দীর্ঘ লড়াই, বহু উত্থান-পতন এবং অর্জিত সম্মানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রবীণ বা পুরনো প্রজন্ম সবসময় নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথপ্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করবে।
যদিও নিজের কাজের গতি হ্রাসের কথা খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, তবুও আগামীর পরিকাঠামো ও উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরতে ভোলেননি এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, আগামী দিনগুলিতে দেশের উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলি যেন কোনোভাবেই বিদ্যুৎহীন না থাকে এবং রাজ্যের প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের আলো দ্রুত পৌঁছে যায়, সেটাই তাঁদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতিন গড়কড়ির এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঠিক এর আগের সপ্তাহে ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের নতুন জাতীয় দল ও কমিটি ঘোষণা করেছে। ২০১৫ সালের পর থেকে গেরুয়া শিবিরে এত বড় এবং ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদল সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি। নতুন প্রকাশিত প্রায় ৬৫৮ সদস্যের কমিটিতে অর্ধেকেরও বেশি নতুন মুখকে স্থান দেওয়ায় দলে স্পষ্টতই একটি বড় প্রজন্মের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এই সাংগঠনিক পটপরিবর্তনের পরেই এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও বড়সড় রদবদলের গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে উঠেছে।