আর্থিক সুরক্ষায় নতুন দিক! রুপোর গয়না বন্ধক রেখে বাজার মূল্যের ৮৫% পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ

আর্থিক প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহকে আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। এতদিন কেবল সোনার গয়না বা মুদ্রা বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়া গেলেও, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে রুপো। ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে গ্রাহকরা রুপো বন্ধক রেখেও ঋণ নিতে পারবেন। এই নতুন সুবিধা ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি)-এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।নতুন নিয়মের মূল বিষয়:বন্ধকের ধরন: সোনা ও রুপোর গয়না বা মুদ্রা বন্ধক রেখে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেওয়া হবে। তবে, সোনা বা রুপোর বার (Gold/Silver Bar) এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে না।ঋণের পরিমাণ: সোনার মতোই রুপোর মূল্যের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। আগে এই সীমা ছিল ৭৫ শতাংশ। রুপোর গয়নার মূল্য বাজার মূল্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে সহজে ঋণ পেতে সাহায্য করবে, কারণ অনেকের বাড়িতে সোনার অলঙ্কার না থাকলেও রুপোর জিনিসপত্র থাকে।ঋণের সীমা ও পরিশোধের নিয়মাবলি:বিষয়সোনা বন্ধক রাখার সীমারুপো বন্ধক রাখার সীমাঋণের পরিমাণ ও সময়কালঅলঙ্কার১ কেজি পর্যন্ত১০ কেজি পর্যন্তসর্বোচ্চ ২.৫ লক্ষ টাকামুদ্রা (কয়েন)৫০ গ্রাম পর্যন্ত৫০০ গ্রাম পর্যন্তপরিশোধের সময়কাল: ১২ মাসের মধ্যেঅন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা:একাধিক ঋণ: একই সোনা বা রুপো বন্ধক রেখে একাধিক ঋণ নেওয়া যাবে না।ঋণের উদ্দেশ্য: সোনা, রুপো বা ইটিএফ কেনার জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।জরিমানা: ঋণ পরিশোধের পর বন্ধক রাখা সোনা বা রুপো ফেরত দিতে ৭ দিন বিলম্ব হলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন ৫,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।ক্ষতিপূরণ: বন্ধক রাখা সোনা বা রুপো হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।সময়মতো পরিশোধ না হলে:ঋণগ্রহীতা যদি সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বন্ধক রাখা সোনা বা রুপো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারে। তবে, বিক্রির আগে ঋণগ্রহীতাকে যথাযথ নোটিশ দিতে হবে।নিলামের জন্য প্রথম রিজার্ভ মূল্য বাজার মূল্যের ৯০ শতাংশ হওয়া উচিত।দুটি নিলামের পরে বিক্রি না হলে, এটি ৮৫ শতাংশে বিক্রি করা যেতে পারে।বিক্রয়ের পরিমাণ ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশি হলে, অতিরিক্ত অর্থ ৭ দিনের মধ্যে ঋণগ্রহীতাকে ফিরিয়ে দিতে হবে।আরবিআই-এর এই পদক্ষেপ ভারতের ক্ষুদ্রঋণ খাতকে উৎসাহিত করবে এবং অনেক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy