আরব সাগরে হুলুস্থুল! ইরানের জাহাজ ডুবতেই কিষাণ-গতিতে উদ্ধার অভিযানে নামল ভারতীয় নৌসেনা

মাঝসমুদ্রে প্রাণ সংশয়! উত্তাল আরব সাগরের ঢেউয়ের গ্রাসে তখন একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছিল ১৯ জন বিদেশি নাবিকসহ একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ। সেই চরম সংকটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ভারতীয় নৌবাহিনী। শুক্রবার ভারতীয় নৌসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি ডুবন্ত ইরানি জাহাজকে উদ্ধার করতে দ্রুততার সঙ্গে দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং নজরদারি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের এই মানবিক ও সাহসিক পদক্ষেপ ফের একবার নৌ-শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।

নৌসেনা সূত্রে খবর, সমুদ্রের মাঝখানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইরানি জাহাজটির খোলে জল ঢুকতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত (S.O.S) পাঠানো হয়। সেই সংকেত পাওয়া মাত্রই ভারতীয় নৌবাহিনীর পাল তোলা জাহাজ ‘আইএনএস তরঙ্গিনী’ (INS Tarangini) এবং অত্যাধুনিক সার্ভে ভেসেল ‘আইএনএস ইকশাক’ (INS Ikshak) পূর্ণ শক্তিতে রওনা দেয়। আকাশপথে নিখুঁত অবস্থানের ওপর নজর রাখতে পাঠানো হয় নৌবাহিনীর বিশেষ বিমানও।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌসেনার ডুবুরি এবং ইঞ্জিনিয়াররা আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করেন। একদিকে যখন পাম্পের সাহায্যে জাহাজ থেকে জল বের করার কাজ চলছিল, তখন অন্যদিকে ফাটল মেরামতি করে জাহাজটিকে ভাসিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন জওয়ানেরা। দীর্ঘক্ষণের লড়াইয়ের পর ১৯ জন ইরানি নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় জাহাজে তাঁদের আশ্রয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই উদ্ধার অভিযান শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানি নাবিকেরা। ভারত যে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কেবল একটি সামরিক শক্তি নয়, বরং মানবিক সংকটে পরম বন্ধু— এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy