আরব সাগরে বিশাল অভিযান! ৩ হাজার কোটির মাদক সহ হাতেনাতে পাকড়াও ৫ পাকিস্তানি নাগরিক

ভারতবর্ষের জলসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের কোমর ভেঙে দিতে ফের এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড) এবং গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। গত ২৫ সেপ্টেম্বর গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে আরব সাগরের লাক্ষাদ্বীপের পশ্চিম অংশে একটি যৌথ ও দুঃসাহসিক অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দাদের নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে মাঝসমুদ্রে একটি সন্দেহভাজন ইরানি নৌকো বা ধোউ আটক করে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় আধিকারিকদের। নৌকোর ভেতর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫২৬ কেজি উচ্চমানের মাদক, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হেরোইন এবং মেথামফেটামিন। এই বিশাল মাদকচক্রটি পরিচালনা করার অভিযোগে নৌকোটি থেকে ৫ জন পাকিস্তানি নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরব সাগরের জলপথ ও আকাশপথে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কড়া নজরদারি এবং গোয়েন্দাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই সফল অভিযান চালনা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করে সন্দেহভাজন নৌকোটিকে মাঝসমুদ্রেই ঘিরে ফেলে কোস্ট গার্ড। এরপর সমস্ত বাজেয়াপ্ত মাদকদ্রব্য, আটক নৌকো এবং ধৃত পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় মুম্বইয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে গোয়েন্দা ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের একটানা জেরা করছেন এবং এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে দেশের ভেতর বা অন্য কোথাও কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

সমুদ্রপথে বেআইনি মাদক পাচার ও চোরাচালান রুখতে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং গুজরাট এটিএস যৌথভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। পাচারকারীরা মূলত আরব সাগরের দুর্গম জলপথটিকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতে মাদক প্রবেশের অপচেষ্টা চালায়। এর আগেও ২০২৫ সালের এপ্রিলে কোস্ট গার্ড এবং গুজরাট এটিএস যৌথ অভিযান চালিয়ে গুজরাট উপকূল থেকে প্রায় ৩০৭.৫ কেজি মাদক উদ্ধার করেছিল। গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের শক্তি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই ধরনের বহুদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পাচার চক্রগুলোর পর্দাফাঁস করা সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের সুরক্ষায় এবং সামুদ্রিক জলসীমায় যেকোনো ধরনের বেআইনি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।