কাশ্মীরে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল! বারামুল্লায় যৌথ বাহিনীর মেগা নাকা তল্লাশিতে বাড়ল নিরাপত্তা

জম্মু ও কাশ্মীরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল বারামুল্লা পুলিশ। বুধবার বারামুল্লা-চান্দুসা রোডে একটি বিশেষ টিআইআই (TII) নাকা মহড়া চালানো হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকায় হঠাৎ করে কোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সঙ্কট তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত, মূলত তা যাচাই করে দেখার জন্যই এই মেগা ড্রিলটি আয়োজন করা হয়েছিল।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান পরিচালনা, নিখুঁত নজরদারি এবং নাকা চেকিংয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীরের আইজিপি সুজিত কুমার বারামুল্লায় একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নিচুতলা থেকে দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক থাকা এবং নাকা তল্লাশির পদ্ধতি আরও উন্নত করার ওপর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে বাস্তবে রূপ দিতেই এই ধরনের আকস্মিক মহড়া চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে নাকা পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশকর্মীদের পারস্পরিক সমন্বয় কতটা নিখুঁত হচ্ছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁকফোকর বা ত্রুটি রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বারামুল্লা-চান্দুসা এলাকায় পুলিশ বরাবরই কঠোর নজরদারি বজায় রাখে। এর অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ সম্প্রতি চান্দুসা অঞ্চলে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির কভারেজ ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেছে। এমনকি, স্থানীয় সিম বিক্রেতারা সরকারি নিয়ম মেনেই ক্রেতাদের সমস্ত সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করছেন কি না, তা নিয়েও কড়া যাচাইবাছাই করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুধু নাকা মহড়াই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে বারামুল্লা পুলিশ একাধিক যৌথ বাহিনীর মেগা মহড়াও পরিচালনা করেছে। এসপি অপারেশন্সের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বারামুল্লা রেলওয়ে স্টেশনে একটি বড়সড় যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই মহড়ায় স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) বারামুল্লা, সিআরপিএফ, সেনাবাহিনী, বিএসএফ, রেলওয়ে পুলিশ (আরপিএফ ও জিআরপিএফ), এসডিআরএফ, দমকল বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা যৌথভাবে অংশ নেন। বিভিন্ন নিরাপত্তা ও জরুরি সেবামূলক বাহিনীর মধ্যে নিখুঁত যোগাযোগ স্থাপন, দ্রুত বাহিনী মোতায়েন, উদ্ধারকার্য এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত বিপদের সময় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করার ক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এই যৌথ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর ও সুসংহত পদক্ষেপে উপত্যকার সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জাল যে আরও নিশ্ছিদ্র হলো, তা বলাই বাহুল্য।