মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের বাজারেও। যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির দাম। মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। ঠিক এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেই বিকল্প জ্বালানির এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা। সেখানে গোবর গ্যাস বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে রান্নার গ্যাসের অভাব পূরণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাঁকসার বেশ কিছু এলাকায় এখন গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট বসানোর হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে সামান্য খরচে এই বায়োগ্যাস ব্যবহার করে অনায়াসেই সারা মাসের রান্নার কাজ মিটে যাচ্ছে। গরুর গোবর এবং পচনশীল আবর্জনা ব্যবহার করে তৈরি এই গ্যাস শুধু যে সাশ্রয়কারী তা-ই নয়, এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন কাঁকসার এই স্বনির্ভর মডেল সারা দেশের কাছে এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই ধরণের ছোট ছোট বায়োগ্যাস ইউনিট গ্রাম বাংলায় ব্যাপক বিপ্লব আনতে পারে। কাঁকসার এই মডেল সফল হওয়ায় আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ এখন এই পদ্ধতি শিখতে ভিড় জমাচ্ছেন। জ্বালানির দাম যখন অগ্নিমূল্য, তখন ‘গোবর গ্যাস’ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের তুরুপের তাস।