আরটিআই কর্মী থেকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের মুখ! কে এই সৌরভ দাস?

দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। আর এই আন্দোলনের মুখ হিসেবে যিনি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন, তিনি হলেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের প্রতিনিধিত্ব করা—সবক্ষেত্রেই সামনের সারিতে থাকা এই তরুণকে নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে সবার। ঠিক কী তাঁর পরিচয়?

তথ্যের অধিকার (RTI) দিয়ে পথচলা শুরু:

দিল্লিভিত্তিক ইনভেস্টিগেটিভ সাংবাদিক এবং ক্লাইমেট অ্যাকশন ফ্রন্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাসের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল কলেজজীবনেই। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি তথ্য ও স্বচ্ছতার অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাছে আরটিআই (RTI) আইন ব্যবহার করে জনস্বার্থের নানা তথ্য চাইতে শুরু করেন। তাঁর সেই সাহসী পদক্ষেপ সেসময়েই সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছিল।

সাংবাদিকতা ও আইনি লড়াই:

২০২০ সালে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কেরিয়ার শুরু করার পর সৌরভ দেশ ও বিদেশের একাধিক নামী গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে—

  • দ্য ক্যারাভান (The Caravan)

  • আর্টিকেল ১৪ (Article 14)

  • আল জাজিরা (Al Jazeera)

  • দ্য ওয়্যার (The Wire)

  • দ্য হিন্দু (The Hindu)

  • নিউ লাইনস ম্যাগাজিন (New Lines Magazine)

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে তথ্য পাওয়ার আবেদন জমা দিতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখে পড়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই আইনি লড়াইয়ের ফলে জরুরি তথ্য সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়া বিচারব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ওপর ‘Complicit Silence: The Court’s Role in India’s Quiet Suffering’ নামে একটি বইও লিখছেন তিনি।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের মূল মুখপাত্র:

বর্তমানে নিট পরীক্ষার অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে চলা সিজেপি-র আন্দোলনে প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন সৌরভ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের যে প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসেছিল, তারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে আরটিআই কর্মী হিসেবে লড়াই শুরু করা এক তরুণ আজ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরের একটি হাই-প্রোফাইল আন্দোলনের অন্যতম মুখ—যা তাঁকে বর্তমানে খবরের শিরোনামের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।