পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন চরম বিন্দুতে। কিন্তু এই সংঘাতের মাঝেই সাইপ্রাসে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। আকরোতিরিতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে আছড়ে পড়া ড্রোনটি আদতে ইরান থেকে ছোড়া হয়নি বলে দাবি করেছে খোদ ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
রবিবার মধ্যরাতের পর সাইপ্রাসের সার্বভৌম ব্রিটিশ ঘাঁটি আকরোতিরিতে একটি ড্রোন রেডার ফাঁকি দিয়ে আছড়ে পড়ে। ড্রোনটির মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান নামানো হলেও একটি ব্রিটিশ ফাইটার জেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার আরও দুটি ড্রোন রেডারে ধরা পড়ায় স্পষ্ট যে, এটি কোনো ভুল নয় বরং সুপরিকল্পিত আক্রমণ।
প্রাথমিকভাবে এই ড্রোনটিকে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ (Shahed) বলে মনে করা হলেও, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে ড্রোনটি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সাইপ্রাসে কারা এই হামলা চালাল? এই নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্তোদুলাইডস জানিয়েছেন, তাঁর দেশ কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে চায় না। এমনকি ব্রিটিশ ঘাঁটি সরানোর দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষও।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি উঠছে, ব্রিটেনকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনতেই কি অন্য কেউ এই হামলা চালিয়েছে? ইজরায়েল বিরোধীদের একাংশ আঙুল তুলছে মোসাদের দিকে। যদিও এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। সব মিলিয়ে সাইপ্রাসের এই ড্রোন হামলা পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।