বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন নৌ অবরোধের পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও শনিবার তেহরান পুনরায় এই পথটি অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোনো বিশাল রণতরি নয়, বরং ইরানের প্রধান অস্ত্র এখন তাদের রহস্যময় ‘মশক বহর’ (Mosquito Fleet)।
কী এই ‘মশক বহর’?
এটি আসলে শত শত ক্ষুদ্র কিন্তু প্রচণ্ড দ্রুতগামী নৌকার একটি সমন্বিত বাহিনী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দ্বারা পরিচালিত এই বহরটি মূলত ছোট নৌকাকে যুদ্ধযানে রূপান্তরিত করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে লাগানো থাকে রকেট চালিত গ্রেনেড, মেশিনগান এবং অত্যাধুনিক ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌকাগুলো ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (১০০ নট) পর্যন্ত গতিতে ছুটতে পারে। বিশালকার মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে পাশ কাটিয়ে অতি দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে পালিয়ে যাওয়াই এদের প্রধান কৌশল, যাকে সামরিক ভাষায় বলা হয় ‘হিট অ্যান্ড রান’।
কেন এদের আটকানো কঠিন?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নৌকাগুলো আকারে ছোট হওয়ায় স্যাটেলাইটে এদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। জানা গেছে, ইরানের দুর্গম উপকূলীয় পাথুরে গুহায় এই ধরনের অন্তত ১০টি গোপন ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে চোখের পলকে শত শত নৌকা সমুদ্রে মোতায়েন করা যায়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। বড় জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই অতর্কিত হামলার সামনে একেবারে অসহায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।





